উমরাহ মুসলিম জীবনে একটি স্বপ্নের ইবাদত, যা হজ্জের মত ফরয না হলেও, অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ الْعُمْرَةُ إِلَى الْعُمْرَةِ كَفَّارَةٌ لِمَا بَيْنَهُمَا وَالْحَجُّ الْمَبْرُورُ لَيْسَ لَهُ جَزَاءٌ إِلاَّ الْجَنَّةُ
“এক উমরাহ থেকে আরেক উমরাহ পর্যন্ত মধ্যবর্তী সময়ের গুনাহসমূহের কাফফারা হয়। আর জান্নাতই হলো কবুল হাজ্জে (মাবরূরের) একমাত্র প্রতিদান।” (সহীহ বুখারী, হাদীস: ১৭৭৩)
আর আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা বলেন: وَ اَتِمُّوا الۡحَجَّ وَ الۡعُمۡرَۃَ لِلّٰهِ ؕ
“আর আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য হজ ও উমরাহ সম্পন্ন কর।” (সূরা আল-বাকারা, আয়াত: ১৯৬)
যারা ২০২৫ সালে উমরাহ পালনের নিয়ত করছেন, তাদের উচিত আগে থেকেই পরিকল্পনা করে ধীরে ধীরে প্রস্তুতি নেয়া। এই প্রস্তুতি শুধু ভিসা, টিকিট বা হোটেল বুকিংয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ না, বরং ঈমান, নফস, শরীয়াহ জ্ঞান ও আচরণের দিক থেকেও আত্মা পরিশুদ্ধ করার প্রস্তুতি।
কেন আগে থেকেই উমরাহর প্রস্তুতি নেবেন?
✅ যেন স্বপ্নের এ সফর সহজ হয় এবং দ্বীনী লক্ষ্য পূরণ হয়।
✅ যেন দুনিয়াবী ঝামেলায় পড়ে ইবাদত থেকে মন সরে না যায়।
✅ যেন সুন্নাহ অনুযায়ী উমরাহ আদায় করা যায়।
উমরাহ ২০২৫ প্রস্তুতির গুরুত্বপূর্ণ ধাপসমূহ
১. নিয়ত বিশুদ্ধ করুন
উমরাহ শুধুমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য হোক – লোক দেখানো, ছবি তোলার জন্য বা “ভ্রমণ” হিসেবে যেন না হয়। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: عَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ إِنَّمَا الْأَعْمَالُ بِالنِّيَّةِ
“নিশ্চয়ই আমলের ফলাফল নিয়তের উপর নির্ভর করে।” (বুখারী ১, মুসলিম ১৯০৭)
২. তাওহীদ ও সুন্নাহর জ্ঞান অর্জন করুন
উমরাহর রীতিনীতি শিখতে হবে সহীহ হাদীসের আলো। যেমন:
- ইহরাম কীভাবে করবেন?
- তাওয়াফ ও সাঈ কীভাবে করবেন?
- মক্কা ও মাদীনায় কোন দুআ গুলো পড়বেন?
🕋 শেখার জন্য নির্ভরযোগ্য আলেমদের ভিডিও/বই/পাঠ্য উপকরণ ব্যবহার করুন। অথবা আমাদের ফ্লাই রিহলার ব্লগ ফলো করুন।
৩. হালাল উপার্জন নিশ্চিত করুন

এই সফরে ব্যয় যেন হয় হালাল রিজিক থেকে। কারণ হারাম উপার্জনের মাধ্যমে ইবাদত কবুল হয় না। রাসূল ﷺ বলেন: أَيُّهَا النَّاسُ إِنَّ اللَّهَ طَيِّبٌ لَا يَقْبَلُ إِلَّا طَيِّبًا وَإِنَّ اللَّهَ أَمَرَ الْمُؤْمِنِينَ بِمَا أَمَرَ بِهِ الْمُرْسَلِينَ فَقَالَ يَا أَيُّهَا الرُّسُلُ كُلُوا مِنْ الطَّيِّبَاتِ وَاعْمَلُوا صَالِحًا إِنِّي بِمَا تَعْمَلُونَ عَلِيمٌ وَقَالَ : يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا كُلُوا مِنْ طَيِّبَاتِ مَا رَزَقْنَاكُمْ ثُمَّ ذَكَرَ الرَّجُلَ يُطِيلُ السَّفَرَ أَشْعَثَ أَغْبَرَ يَمُدُّ يَدَيْهِ إِلَى السَّمَاءِ يَا رَبِّ يَا رَبِّ وَمَطْعَمُهُ حَرَامٌ وَمَشْرَبُهُ حَرَامٌ وَمَلْبَسُهُ حَرَامٌ وَغُذِيَ بِالْحَرَامِ فَأَنَّى يُسْتَجَابُ لِذَلِكَ
“হে মানুষেরা, আল্লাহ পবিত্র। তিনি পবিত্র (বৈধ) ছাড়া কোনো কিছুই কবুল করেন না। আল্লাহ মুমিনগণকে সেই নির্দেশ দিয়েছেন
যে নির্দেশ তিনি নবী ও রাসূলগণকে দিয়েছেন (বৈধ ও পবিত্র উপার্জন ভক্ষণ করা)। তিনি (রাসূলগণকে নির্দেশ দিয়ে) বলেছেনঃ হে রাসূলগণ, তোমরা পবিত্র উপার্জন থেকে ভক্ষণ কর এবং সৎকর্ম কর, নিশ্চয় তোমরা যা কিছু কর তা আমি জানি।[1] (আর তিনি মুমিনগণকে একই নির্দেশ দিয়ে বলেছেন) : হে মুমিনগণ, আমি তোমাদের যে রিযিক প্রদান করেছি তা থেকে পবিত্র রিযিক ভক্ষণ কর।”[2] এরপর তিনি একজন মানুষের কথা উল্লেখ করেন, যে ব্যক্তি (হজ্ব, উমরা ইত্যাদি পালনের জন্য, আল্লাহর পথে) দীর্ঘ সফরে রত থাকে, ধূলি ধূসরিত দেহ ও এলোমেলো চুল, তার হাত দু’টি আকাশের দিকে বাড়িয়ে দিয়ে সে দু‘আ করতে থাকে, হে পভু! হে প্রভু !! কিন্তু তার খাদ্য হারাম, তার পোশাক হারাম, তার পানীয় হারাম এবং হারাম উপার্জনের জীবিকাতেই তার রক্তমাংস গড়ে উঠেছে। তার দু‘আ কিভাবে কবুল হবে!
সহীহ মুসলিম ২/৭০৩, নং ১০১৫, নাবাবী শারহু সহীহি মুসলিম ৭/১০০। (সোর্স: hadithbd)
৪. শরীর ও মানসিক প্রস্তুতি
- নিয়মিত হাঁটা ও ব্যায়াম শুরু করুন। মক্কায় ও মাদীনায় অনেক হাঁটতে হয়।
- ধৈর্য, নম্রতা, ক্ষমাশীলতা ইত্যাদি গুণগুলো চর্চা করুন – ভীড়ের কারনে অনেক কিছুই সহ্য করতে হয়।
৫. প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস ও বুকিং
- পাসপোর্ট: কমপক্ষে ৬ মাস মেয়াদ থাকতে হবে। (আমাদের প্রিয়জন একবার টাকা পয়সা জমা দিয়েও শুধুমাত্র মেয়াদ না থাকার কারনে তার যাওয়া হয়নি।
- ভিসা: উমরাহ ভিসার জন্য আবেদন সময়মত করুন (মিনিমাম ১৫ দিন আগে পাসপোর্ট জমা দিন)।
- টিকিট ও হোটেল: নির্ভরযোগ্য ট্রাভেল এজেন্সির সাথে যোগাযোগ করুন। (যেমন: Fly Rihlah ✅)
উমরাহর সময় করণীয় ও বর্জনীয়
✅ সুন্নাহ মোতাবেক আমল করুন
✅ দুআ ও যিকিরে ব্যস্ত থাকুন
✅ জ্ঞান অর্জনে সময় দিন
✅ আল্লাহর কাছে গুনাহ ক্ষমা চান
✅ মা-বাবা ও মুসলিমদের জন্য দুআ করুন
❌ ছবি তোলা, লাইভে যাওয়া, ভিডিও বানানো ইত্যাদি এড়িয়ে চলুন
❌ বিদআতি আমল – যেমন নির্দিষ্টভাবে কোন পাথরে হাত রাখা, তাওয়াফে দোয়ার বই দেখে হাঁটা
❌ অন্যের ইবাদতে বিঘ্ন সৃষ্টি
ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকে কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিক
- উমরাহতে আল্লাহর মেহমান’ হওয়ার অনুভূতি নিয়ে যান।
- ‘লা শরীকালাহ’ (হে আল্লাহ আপনার কোন শরীক নেই) – এই বাক্য যেন অন্তরে গভীরভাবে প্রবেশ করে।
- হজ ও উমরাহ শয়তানের বিরুদ্ধে এক জিহাদ, তাই ধৈর্য ও তাকওয়া জরুরি। রাসূল ﷺ বলেন: عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم “ تَابِعُوا بَيْنَ الْحَجِّ وَالْعُمْرَةِ فَإِنَّهُمَا يَنْفِيَانِ الْفَقْرَ وَالذُّنُوبَ كَمَا يَنْفِي الْكِيرُ خَبَثَ الْحَدِيدِ وَالذَّهَبِ وَالْفِضَّةِ وَلَيْسَ لِلْحَجَّةِ الْمَبْرُورَةِ ثَوَابٌ إِلاَّ الْجَنَّةُ
আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা হাজ্জ ও উমরা পরপর একত্রে আদায় কর। কেননা, এ হাজ্জ ও উমরা দারিদ্র্য ও গুনাহ দূর করে দেয়, লোহা ও সোনা-রূপার ময়লা যেমনভাবে হাপরের আগুনে দূর হয়। একটি কুবুল হাজ্জের প্রতিদান জান্নাত ব্যতীত আর কিছুই নয়।
– হাসান সহীহ, ইবনু মা-জাহ (২৮৮৭) (সোর্স: hadithbd)
Fly Rihlah – হবে আপনাদের আস্থার ঠিকানা ইনশাআল্লাহ
আমরা বিশুদ্ধ সুন্নাহ অনুযায়ী শুধুমাত্র ইবাদত কেন্দ্রিক উমরাহ আয়োজন করে থাকি। আমাদের মূল লক্ষ্য:
- সহীহ আকীদাহ ও আমলের উপর প্রশিক্ষণ
- অভিজ্ঞ গাইড ও মুআল্লিমদের সহযোগিতা
- সার্বক্ষণিক শরঈ পরামর্শ
আপনি যদি চান:
➡️ ইবাদতকেন্দ্রিক একটি সফর,
➡️ সুন্নাহ অনুসরণে দৃঢ়তা,
➡️ এবং দুনিয়া ও আখিরাতের জন্য বরকতময় অভিজ্ঞতা,
তাহলে আমাদের জুলাই ২০২৫ উমরাহ কাফেলার সাথেই থাকুন ইন শা আল্লাহ।
📌 বিস্তারিত জানতে ও বুকিং করতে: www.flyrihlah.com
উপসংহার
উমরাহ শুধু একটি সফর নয় – এটি আত্মশুদ্ধি, ঈমানের নবায়ন ও জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার এক ইবাদত। তাই এর প্রস্তুতিও হতে হবে তাকওয়ার সাথে, জ্ঞানের সাথে, ও সুন্নাহর আলোকে।
আল্লাহ তাআলা বলেন:
“আর যে ব্যক্তি আল্লাহর কাওসারের (পবিত্র বিধানসমূহের) প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে, সেটি তো তাকওয়ার আলামত।”
(সূরা আল-হাজ্জ, আয়াত: ৩২)
আল্লাহ তাআলা আমাদের সকলের উমরাহ কবুল করুন। আমীন।
©️শাইখ খালিদ আব্দুল্লাহ আল-মাদানী, ম্যানেজিং ডিরেক্টর, ফ্লাই রিহলাহ


